নাছির উদ্দিন সোহেল, সিবিএন;

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ১১টি এসির পাইপ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে একটি এসির আউটডোর ইউনিটও খুলে নেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এতে হাসপাতালের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে এসি অচল হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড গরমে দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা।

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, গত ২১ আগস্ট শুক্রবার দুপুর থেকে বিভিন্ন বিভাগের এসি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে এসি টেকনিশিয়ান বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখতে পান, কয়েকটি এসির পাইপ কেটে নেওয়া হয়েছে। জরুরি বিভাগের চারটিসহ মোট ১১টি এসির পাইপ এবং একটি এসির আউটডোর ইউনিট খুলে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ‘এসি কোম্পানির লোক’ পরিচয়ে এক ব্যক্তি হাসপাতালের ছাদে প্রবেশ করে এসব পাইপ কেটে নিয়ে যান। এ সময় হাসপাতালের একজন লিফট অপারেটর অনুমতি ছাড়াই ছাদের তালা খুলে দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতালের লিফট অপারেটর শিহাবের ভাষ্য, একজন ব্যক্তি নিজেকে এসি কোম্পানির লোক পরিচয় দিয়ে ছাদে কাজ করার কথা বলেন। তার কথায় তিনি ছাদের তালা খুলে দেন। পরে ওই ব্যক্তি বিকেল ৩টার দিকে বের হয়ে যাওয়ার সময় ছাদের গেটে আবার তালা লাগিয়ে দিতে বলেন।

হাসপাতালের এসি টেকনিশিয়ান মাইনুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে স্টোরকিপার মনিরের মোবাইল নম্বর থেকে তাকে ফোন করে জানানো হয়, GREE এসি কোম্পানির একজন লোক এসির কাজ করতে এসেছেন। তাকে ছাদের তালা খুলে দেওয়ার কথাও বলা হয়। তবে তিনি সময়মতো সেখানে পৌঁছাতে পারেননি।

মাইনুলের দাবি, শনিবার ছাদে গিয়ে তিনি একই ব্যক্তিকে এসির পাইপ কাটতে দেখেন। বিষয়টি জানাতে লোকজন ডাকতে গেলে ওই ব্যক্তি সেখান থেকে পালিয়ে যান।

ঘটনার পর হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার ছাদে বহিরাগত একজন ব্যক্তি কীভাবে পরিচয় যাচাই ছাড়াই প্রবেশের সুযোগ পেলেন, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

এদিকে এসি অচল থাকায় SCANU, মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ড, পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ড এবং জরুরি বিভাগে রোগীদের ভোগান্তি বেড়েছে। বিশেষ করে সংকটাপন্ন নবজাতকদের চিকিৎসা দেওয়া SCANU ইউনিটের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা।

চকরিয়া থেকে সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে থাকা লিজা বলেন, “সাত দিন ধরে হাসপাতালে রয়েছি। সন্তানের অবস্থা গুরুতর। প্রচণ্ড গরমে এখানে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।”

আরেক রোগীর মা কাউছার আকতার বলেন, “চার দিন ধরে সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি রেখেছি। অতিরিক্ত গরমে রোগীর অবস্থার অবনতি হচ্ছে।”

তবে কোনো শিশুর মৃত্যুর সরাসরি কারণ এসি বন্ধ থাকা—এমন কোনো চিকিৎসাসংক্রান্ত নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মং টিংঞোর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সাবুকতগিন মাহমুদ সোহেল বলেন, “এসি বন্ধ এবং চুরির বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। থানায় অভিযোগ করেছি। আমাদের আর কোনো কাজ নেই, বাকিটা পুলিশ দেখবে।”

তবে হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় কোনো অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার বিষয়ে কক্সবাজারের সিভিল সার্জনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় ‘এসি কোম্পানির লোক’ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির পরিচয়, ছাদে প্রবেশের অনুমতি, চাবি ব্যবহারের বিষয় এবং হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের ভূমিকা তদন্তের দাবি উঠেছে। পাশাপাশি চুরি যাওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন রোগী ও স্বজনরা।